বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬ |
  1. খেলা
  2. চাকরি
  3. জীবনযাপন
  4. বাণিজ্য
  5. বাংলাদেশ
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. মতামত
  9. রাজনীতি

প্রসঙ্গ প্রথম আলো: মারদিয়া মমতাজের প্রতিক্রিয়া ও লেখকের বক্তব্য

প্রতিবেদক
shamiul
আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

প্রসঙ্গ প্রথম আলো: মারদিয়া মমতাজের প্রতিক্রিয়া ও লেখকের বক্তব্য

সহিংসতার পক্ষে বলিনি, বলেছি সহিংসতা কাজ করে না

মারদিয়া মমতাজ

গোপন বন্দিশালা নিয়ে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে যেদিন ‘কথিত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত মানুষ ক্ষোভ জানিয়েছেন, সমালোচনা করেছেন, অনেকে বর্জনের কথাও বলেছেন। তাঁদের কারও নাম কোনো কলামে আসেনি; এল শুধু জামায়াতের নারী এমপির। বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিরোধিতা নতুন কিছু নয় যদিও, নারীকে আটকানোর জন্য এখানে বারবার টার্গেট করা হয়। ব্যাপারটা একদম পরিষ্কার। একই কথা যখন হাজারজন বলে, তখন একজন নারীকেই টার্গেট করা হয় কেন?

উত্তরটা বোধ হয় এই যে আমি একজন নারী ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য। কথাটা যিনি বলছেন, তাঁর দলীয় পরিচয়ই যদি লেখার মূল উপজীব্য হয়, তবে সেটা আর মতামতের সমালোচনা থাকে না, ব্যক্তির ও দলের ওপর আরোপিত বিচার হয়ে দাঁড়ায়।

মারদিয়া মমতাজ

মারদিয়া মমতাজছবি: ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত

শিরোনামের প্রসঙ্গেই একটা কথা বলি। কয়েক মাস আগে আমাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে একটি ব্যঙ্গাত্মক অভিধা বসানো হয়েছিল। প্রতিবেদনটি অনুসন্ধানমূলক ছিল, সেটা স্বীকার করি এবং প্রথম আলো নিজেরাই দেখিয়েছিল ট্রলটির উৎস কোথায়। তবু প্রশ্নটা থেকে যায়, একটি ব্যঙ্গাত্মক অভিধাকে শিরোনামে তুলে আনলে সেটির প্রচার কমে, না বাড়ে?

এই দেশে প্রথম আলোকেও অনেকে নানা বিদ্রূপাত্মক নামে ডাকেন। কোনো সংবাদমাধ্যম যদি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে শিরোনামে লেখে, প্রথম আলোকে কেন ‘অমুক’ নামে ডাকা হয়, উদ্ধৃতিচিহ্নসহ, তখন প্রথম আলোর সহকর্মীরা সেটিকে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা মনে করবেন তো?

দ্বিতীয়ত, ড. নাদিম মাহমুদের লেখায় আমার বক্তব্যের এই মূল জায়গাটি প্রায় অনুপস্থিত; বরং আমার বক্তব্যের ‘আমরা’ শব্দটি ধরে একটি প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে, এই ‘আমরা’ কারা? এরপর সেটিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এখানে লেখকের একটি মৌলিক দায়িত্ব ছিল, তিনি আমাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে পারতেন, ‘আপনি আমরা বলতে কাদের বুঝিয়েছেন?’ আমি পরিষ্কারভাবে উত্তর দিতাম। কিন্তু আমাকে প্রশ্ন না করে আমার একটি শব্দ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনুমান করা এবং সেই অনুমানকে পাঠকের সামনে সন্দেহের বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার কোন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

আমি কোনো সহিংসতার দায় স্বীকার করিনি। কোনো সংগঠনকে সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্তও করিনি। অথচ আমার বক্তব্য থেকে এমন একটি সংযোগ তৈরি করা হয়েছে, যার ভিত্তি আমার বক্তব্যে নেই।

আরও পড়ুন

প্রথম আলো নিয়ে জামায়াতের নারী এমপির কেন এই বিষোদ্‌গার

আজ ক্ষমতায় নতুন সরকার, বিরোধী আসনে আমরা। যদি আবারও সরকারের চেয়ে বিরোধী দলের সমালোচনায় কলম বেশি সরব হয়, তবে বুঝতে হবে, গত ১৫ বছরের শিক্ষাটা আমরা নিইনি।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে জরুরি কথা, আমার বক্তব্য ছিল রূপক। আমি সহিংসতার পক্ষে বলিনি, বলেছি সহিংসতা কাজ করে না। অফিস ভাঙলে পত্রিকা দুর্বল হয় না, বরং শক্তিশালী হয়। আমি বোঝাতে চেয়েছি, একটি পত্রিকার প্রকৃত শক্তি তার পাঠক। আর সেই শক্তির উৎস যেহেতু পাঠক, সেহেতু পাঠকই তা ফিরিয়ে নিতে পারেন। পাঠকেরা একই সঙ্গে পত্রিকাকে জবাবদিহি করার প্রধান হাতিয়ারও। কোনো পত্রিকা যদি আমাদের জাতীয় অর্জন, জাতীয় ট্রমা কিংবা এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য নিয়ে ভুল শব্দ ব্যবহার করে, যে সত্যের স্বীকৃতি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্য; তখন পাঠকের সেই পত্রিকা না পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহিংসতা নয়, বরং সহিংসতার একমাত্র সভ্য বিকল্প।

১৯৮৯ সালের এপ্রিলে ইংল্যান্ডের হিলসবরো স্টেডিয়ামে পদদলিত হয়ে ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থক নিহত হন। ঘটনার চার দিন পর ব্রিটেনের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক দ্য সান প্রথম পাতায় ‘দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে দাবি করে, সমর্থকেরাই মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা করেছে, মরদেহের পকেট থেকে চুরি করেছে, উদ্ধারকর্মীদের মারধর করেছে। ২০১২ সালের তদন্তে প্রমাণিত হয়, পুরো বয়ানটাই ছিল পুলিশি ধামাচাপার অংশ, সম্পূর্ণ মিথ্যা। ২০১৬ সালের ইনকোয়েস্ট রায়ে সমর্থকদের সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।

লিভারপুল শহর কী করেছিল? পত্রিকা অফিসে আগুন দেয়নি। তারা পত্রিকাটি কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল। ‘ডোন্ট বাই দ্য সান’ নামের সেই বর্জন আজও চলছে, প্রায় ছত্রিশ বছর ধরে। ২০১৭ সালে লিভারপুল ফুটবল ক্লাব দ্য সান–এর সাংবাদিকদের নিজেদের স্টেডিয়াম ও অনুশীলন মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। পত্রিকাটি বারবার ক্ষমা চেয়েছে, তাতেও বর্জন ওঠেনি। পাঠক যখন সিদ্ধান্ত নেন, সেটা বাজারের ভাষা, গণতন্ত্রের ভাষা। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও একই সঙ্গে একজন পাঠক এবং পাঠক হিসেবে নিজের পছন্দ প্রকাশ করার অধিকার তাঁর আছে। 

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ছবি: প্রথম আলো

লেখক নাদিম মাহমুদ প্রসঙ্গে

কলামের লেখক ড. নাদিম মাহমুদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই। কিন্তু তাঁর লেখার একটি ধরন লক্ষ করার মতো। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রথম আলোয় লিখেছিলেন, শিরোনাম ছিল ‘“ভারতবিরোধী” জামায়াতের ইশতেহারে কেন ভারতীয় ছবি।’ অর্থাৎ কেউ সরকারের নীতি ও কাজের সমালোচনা করলে বৈধভাবে সরকারের সুবিধা নিতে পারবে না। কেউ ভারতের সমালোচনা করলে ভারতের কোনো ফটোগ্রাফারের ছবি কিনে ব্যবহার করতে পারবে না?

লেখকের ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, জামায়াতের বিষয়ে কী অবস্থান?’, ‘’’গুপ্ত’’ রাজনীতি কেন ভয়ানক’ ইত্যাদি শিরোনামের মতামতগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির সমালোচনা যখন তিনি করেন, তখন তা থাকে নির্দিষ্ট নীতি বা কাজের পর্যালোচনা। জামায়াতের বেলায় সমালোচনার লক্ষ্য হয়ে ওঠে দলটির অস্তিত্ব ও পরিচয়। এটা প্রমাণ করে, তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই জামায়াতের বিরুদ্ধে লেখেন।

এই দেশে গত ১৫ বছরে আমরা দেখেছি, সরকার নয়, বিরোধী দলই ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনার প্রধান লক্ষ্য। সরকারের ভুল বিশ্লেষণ করা হয়েছে সহানুভূতির সঙ্গে, বিরোধী দলের অস্তিত্বকে করা হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। ধীরে ধীরে বিরোধিতা করাটাই অপরাধ হয়ে উঠেছিল। ফ্যাসিবাদ একদিনে আসে না, এভাবেই আসে। আজ ক্ষমতায় নতুন সরকার, বিরোধী আসনে আমরা। যদি আবারও সরকারের চেয়ে বিরোধী দলের সমালোচনায় কলম বেশি সরব হয়, তবে বুঝতে হবে, গত ১৫ বছরের শিক্ষাটা আমরা নিইনি।

আমি চাই প্রথম আলো টিকে থাকুক, শক্তিশালী থাকুক এবং যে সরকারই আসুক, তার সমালোচনা করুক। সেটাই তার কাজ। আর পাঠক হিসেবে দ্বিমত পোষণ করা, প্রয়োজনে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, সেটা আমার কাজ। দুটোই গণতন্ত্র।

 মারদিয়া মমতাজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য

https://e3ddf3760bf8eedc8bbcb5c5756514d9.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html

গণমাধ্যমে আগুনের ঘটনায় ‘লাভ–ক্ষতির’ হিসাব কেন

নাদিম মাহমুদ 

সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ প্রতিক্রিয়ার শুরুতেই দাবি করেছেন, বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেহেতু নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে বারবার নারীকে টার্গেট করা হয়, সেহেতু এখানেও আসলে নারী হিসেবেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে।

বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক যে নারী সংসদ সদস্য নিজেকে ‘নারী’ মনে করে ‘দুর্বল’ ভাবছেন এবং এই ‘দুর্বলতার’ কারণে নাকি তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে
বলে ভাবছেন। আমার পুরো লেখায় কি ‘লিঙ্গভিত্তিক’ বৈষম্য কিংবা নারীকে ‘হেয়’ করা হয় বলে এমন কোনো বক্তব্য ছিল?

নারীদের আটকানোর চেষ্টা সম্ভবত আমরা কেউ করতে চাই না, কিন্তু ‘নারীদের আটকানোর’ দৃষ্টিভঙ্গি গত বছর তাঁদের দলের আমিরের বক্তব্যে স্পষ্টত ফুটে উঠেছিল। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমি ‘নারীর ৫ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা, পেছনের রাজনীতিটা আসলে কী’ শিরোনামের লেখায় নারী ও পুরুষদের তফাত করার বিরোধিতা করেছি। সুনির্দিষ্টভাবে ‘নারী’ বলেই টার্গেট করা হয়েছে, তা নিছকই তাঁর কল্পনা। সংসদে সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করেন—এমন অবস্থান থেকে এখানে যদি অন্য কেউও একই ধরনের মন্তব্য করতেন, আমার অবস্থান ও প্রতিক্রিয়ার কোনো পরিবর্তন হতো না।

নাদিম মাহমুদ

নাদিম মাহমুদছবি: ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত

দুই. মারদিয়া মমতাজ ‘আমরা’ শব্দের আমার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলছেন, এই ‘আমরা’ ব্যাখ্যা শোনার জন্য তাঁর সঙ্গে আমি কেন যোগাযোগ করলাম না। যোগাযোগ করলে পরিষ্কার উত্তর দিতেন।

প্রথমত, এটি ছিল একটি মতামতভিত্তিক লেখা, কোনো প্রতিবেদন ছিল না। যদি প্রতিবেদন হতো, নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এই সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘আমরা’ শব্দের ব্যাখ্যা চাইতেন। কিন্তু আমি একজন স্বাধীন লেখক হিসেবে ওই সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমার মতামত দিয়েছি এবং কিছু প্রশ্ন তুলেছি। এটি গণতান্ত্রিক চর্চার সৌন্দর্যও বটে। তা ছাড়া মারদিয়া মমতাজ একজন পাবলিক ফিগার এবং তিনি তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন পাবলিক প্লেস বা জনপরিসরে। আমিও জনপরিসরেই প্রশ্ন তুলেছি। ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে জানতে চাইব কেন?

সবচেয়ে বড় কথা, মারদিয়া প্রতিক্রিয়ায় ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহারের কোনো ব্যাখ্যা দেননি। যেহেতু তিনি ‘আমরা’র কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তাঁর প্রতিক্রিয়ার কোথাও তুলে ধরতে পারেননি, সেহেতু আমি আমার আগের সেই প্রকাশিত লেখার অবস্থানে অটল রয়েছি।

তিন. জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্য তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, তাঁর ওই বক্তব্য ছিল ‘রূপক’ এবং তিনি কোনো ধরনের ‘সহিংসতার’ পক্ষে বলেননি। প্রশ্ন হলো, তিনি যে সহিংসতার পক্ষে বলেছেন, তা কি আমি আমার লেখায় বলেছি? আমি উল্টো প্রশ্ন তুলেছি, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি কেন গণমাধ্যমের কার্যালয় পোড়ানোকে ‘লঘু’ মনে করেছেন। কেন এই আগুনে পোড়ানোর মতো জঘন্য কাজের মধ্যে তিনি ‘লাভ-ক্ষতির’ হিসাব করতে গেলেন।

‘রূপক’ অর্থে ব্যবহার আর ‘অবজ্ঞা’ করার অর্থে ব্যবহার এক নয়। মারদিয়া মমতাজ যদি সত্যি মনে করেন, একটি পত্রিকার প্রকৃত শক্তি তার ইট-কাঠ নয়, তার পাঠক, তাহলে কীভাবে তিনি বলতে পারেন, ‘ওই যে ফকির যেমন ঘা দেখিয়ে টাকা তোলে, সে এই ভাঙা অফিস দেখায়ে আরও একটু মানুষের কাছে যায়।’ এ কথার ব্যাখ্যা তো প্রতিক্রিয়ায় নেই।

আমি মনে করি, গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য সবার আগে সাংবাদিকতার গণতান্ত্রিক চরিত্র ফেরানো জরুরি। আর এ জন্য সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বরকে শ্রদ্ধা জানানো জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বও বটে।

মারদিয়া মমতাজ সহিংসতাকে সরাসরি নিন্দা না করে, বরং তাকে ‘অকার্যকর কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একটি অপরাধকে নৈতিক দিক থেকে নিন্দা করা এবং তাকে কৌশলগতভাবে ‘অলাভজনক’ বলা—এ দুইয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে, তা আমরা জানি। উল্লেখ্য, প্রথম আলোকে জাতীয় অর্জন কিংবা জাতীয় ট্রমাকে ‘হেয়প্রতিপন্ন’ করতে দেখিনি। বরং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পত্রিকাটির অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট। এরপর বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে ছাত্র-জনতার আত্মাহুতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে।

চার. মারদিয়া মমতাজ প্রায় অপ্রাসঙ্গিকভাবে দ্য সান-হিলসবরো ঘটনার উদাহরণ টেনেছেন। হিলসবরোর ক্ষেত্রে দ্য সান একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ক্ষতিকর বয়ান প্রকাশ করেছিল, যা প্রমাণিত হয়েছিল বছরের পর বছর তদন্তে। 

অন্যদিকে প্রথম আলোর ক্ষেত্রে যে ভুল ছিল, তা সাধারণ ভুল, যা প্রতিবেদনের ভেতর ছিল না কিংবা প্রতিবেদনটিও মিথ্যা নয়। একটি স্বীকৃত ও সংশোধিত সাংবাদিকতা-ত্রুটির সঙ্গে দশকব্যাপী প্রতিষ্ঠিত একটি মিথ্যা প্রচারণার তুলনা করা যথাযথ নয়। পাশাপাশি মারদিয়া মমতাজ কেন বলছেন না, ‘কথিত’ শব্দটি কেবল একটি ভুল ছিল, যে ভুলের সংশোধনী দিয়ে ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে শ্রদ্ধা করেছে? একটি ভুল শব্দ ব্যবহারের দায় স্বীকার করা ও সংশোধনীর পরও এই বিষোদ্‌গার দৃষ্টিকটুই।

পাঁচ. মারদিয়া মমতাজ আমার বেশ কিছু লেখার শিরোনাম টেনে, আমাকে অপ্রত্যাশিতভাবেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন বলে মনে হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত ‘“ভারতবিরোধী” জামায়াতের ইশতেহারে কেন ভারতীয় ছবি’ শীর্ষক আমার এক নিবন্ধের যুক্তি খণ্ডন হিসেবে তিনি বলছেন, কেউ সরকারের নীতি ও কাজের সমালোচনা করলে বৈধভাবে সরকারের সুবিধা নিতে পারবে না। কেউ ভারতের সমালোচনা করলে ভারতের কোনো ফটোগ্রাফারের ছবি কিনে ব্যবহার করতে পারবে না?

এটি বালখিল্য যুক্তি। আপনি রাজনৈতিকভাবে ভারতের বিরোধিতা করবেন, কিন্তু আপনি যে দেশের রাজনীতি করবেন, সেই দেশকে, অর্থাৎ বাংলাদেশকে ‘উপস্থাপন’-এর জন্য আবার ভারতীয় ছবি ব্যবহার করবেন? এটা কোনো যুক্তি হতে পারে? 

ছয়. সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, আমি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই জামায়াতের বিরুদ্ধে লিখি। অভিযোগটি হাস্যকর। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা কিংবা বৈরিতা নেই। তিনি হয়তো প্রত্যাশা করেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো অন্য দলগুলোর একই সমালোচনা করা উচিত। আমি সম্ভবত, কোনো দলের সমালোচনা করি না, বরং দলগুলোর নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে পর্যালোচনা করি, যাতে আমাদের দেশটি প্রকৃতপক্ষে এগিয়ে যায়।

আমি মনে করি, গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য সবার আগে সাংবাদিকতার গণতান্ত্রিক চরিত্র ফেরানো জরুরি। আর এ জন্য সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বরকে শ্রদ্ধা জানানো জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বও বটে। 

 ড. নাদিম মাহমুদ গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ - চাকরি

আপনার জন্য নির্বাচিত

প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানাকে নিয়ে ভাইয়ের নতুন বই, ‘সত্য’ তুলে ধরবেন তিনি

মানিকগঞ্জে তরুণের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই, এএসআইকে প্রত্যাহার

গলে সুতারের ১০ উইকেটে ৬০০ তম টেস্টে জয় পেল ভারত

পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনে দুই হোটেলে আগুন, আগের ঘটনায়ও ৮ মৃত্যু

‘আপত্তি’ ওঠার পর কিশোরগঞ্জে কনসার্ট স্থগিত

ডেঙ্গু রোগী বাড়িতে থাকলে চিকিৎসা কী

রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, জনগণের পাশে থেকে সেবা করব: মির্জা ফখরুল

পিএসসির পাঁচ দশক: মেয়াদ পূর্ণ করেছেন মাত্র ৪ চেয়ারম্যান

এর পর থেকে পাকিস্তানের সাংবাদিকেরা মেপে মেপে কথা বলত…

৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা সিইও এবার নিজের চাকরি ফিরে পেতে লড়ছেন